শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
সারাদেশে একযোগে সকল জেলা/উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন।ই-মেইলঃ abirnews27@gmail.com

চায়ের কেটলীতে রেজাউলের ২২ বছর…

প্রতিবেদকঃ সাইদুল ইসলাম আবির
  • Update Time : বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২০ Time View
ছবিঃসাইদুল ইসলাম আবির

সাইদুল ইসলাম আবিরঃ

কিটকিটে শীত। কিন্তু অভাবের কাছে তো শীত গরম নেই। আছে কেবল প্রয়োজন মিটানোর চাহিদা। দূর থেকে ঠান্ডা পানি বালতিতে ভরে আনেন। সেই পানি সেদ্ধ করেন। এরপর শুরু হয় ফরমায়েস শোনা।

যে যেভাবে পারছেন চা চাচ্ছেন। রেজাউল তার সেদ্ধ পানিতে চিনির মিশ্রন ঘটিয়ে লিকার মিশিয়ে পরিবেশন করছেন চা।

চা বিক্রেতা রেজাউলের এই সংগ্রাম এক দিনের নয়। সেই ১৪ বছর বয়সে অন্যের দোকানে চা বিক্রির কাজ শুরু করেছিলেন। তারপর কেটে গেছে ২২টি বছর। এই দুই দশকে কত কিছুর পরিবর্তন দেখেছেন চোখের সামনে। কিন্তু তার জীবনের কোন পরিবর্তন আসেনি।

প্রাপ্তি শুধু নিজে একটি চায়ের টং দোকান করতে পেরেছেন।

রেজাউল কে বললাম ভাই দুইকাপ চা দাও তো। গ্রাহক চায়ের কথা বলার সময় নিলেও চা তৈরি করে গ্রাহকের হাতে তুলে দিতে সময় নেননা এই চা বিক্রেতা রেজাউল। চায়ের কাপে দুধ চিনির মিশ্রনে চামচের খটখট আওয়াজে ঝড় উঠে তার চায়ের দোকানে। সেই ঝড়ে মেতে উঠে সকালের রায়গঞ্জ উপজেলা ক্যাম্পাস।

চা তৈরির সময় চলে নানা রকমের কৌতুক প্রিয় বাক্যলাপ। কথা মালার খুনসুটিতে মুচকি হাসির ঝলকও লেগে থাকে তার মুখে। রেজাউল করিম(৩৬)। পিতা মোঃ নেজবার আলী।সে রায়গঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
অভাবের ৩ সদস্যের পরিবারে পিতার স্বচ্ছলতা না থাকায় ১৪ বছর বয়স থেকে অন্যের চায়ের দোকানে কাজ করা শুরু রেজাউলের। সেই কাজই ২২ বছর ধরে একটানা করে আসছেন তিনি।

এখন তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা ক্যাম্পাসের বাইরে ঝুপড়ি ঘরে চা বিক্রি করেই সংসার চালনা করেন। রেজাউলের চায়ের দোকান বল্লেই সবাই তাকে চেনেন এক নামেই চনেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চা বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তাই দিয়ে চলে তার ৩ সদস্যের পরিবারের সংসার।

চা বিক্রির সাথে সাথে সে কবিরাজী পেশার সাথেও জড়িয়ে আছেন। নানা প্রকার জটিল রোগের ভেষজ ঔষধ বিক্রি করেন তিনি।

চা তৈরিতে তার তুলনা নেই। নানা স্বাদের চা তৈরি করে গ্রাহকদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তার দোকানে সকল শ্রেনি পেশার মানুষের আসা যাওয়া আছে নিয়মিত। সদা সর্বদা সদালাপি রেজাউল হাসি মুখে কথা বলেন।

মাঝে মাঝে কৌতুক পরিবেশন করে সকলের দৃষ্টি কাড়েন তিনি। চা চিনির সাথে কাপের গায়ে দিনমান চামুচের খটখটানির আওয়াজ না শুনলে নাকি তার আজকাল ভাল লাগে না। ২২ বছর একটানা এই আওয়াজের সাথেই তার সংসার বলেন রেজাউল।

রেজাউল বলেন, আজকাল দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চা বিক্রি করে সংসার চালনো কষ্টকর। তাছাড়া চা সিগারেট খেয়ে বাকী রাখলে চালান খুজে পাওয়া যায় না।
ভ্রমন পিপাসু রেজাউল চরমোনাই পীরের মুরিদ।

ব্যস্ততার ভিড়ে নামাজটাও নিয়মিত পড়েন তিনি। চরমোনাই পীরের মুরিদ হওয়ায় সুন্নতি পোষাক পড়েই তিনি দোকানদারি করে থাকেন।

থাকার মত তেমন বাসস্থান নেই তার। বাবা নেজবারের ভিটায় চারচালা ছোট্ট একটা টিনের ঘর। স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে গাদাগাদি করে থাকেন সেখানেই।

চায়ের কাপের আওয়াজের সাথে সাথেই দেশ নিয়েও ভাবেন তিনি। গত হওয়া নির্বাচনগুলোকে তিনি সুষ্ঠু নির্যাতন বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই কথা শুনেও আগত কাস্টমাররা হাসির খোরাক নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
dailydeshersangbad.com2021.
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102